ঝিকরগাছাবাজার পত্রিকা : স্বাস্থ্য
বিঃ দ্রঃ ভাষার মাস উপলক্ষে ঝিকরগাছা বাজার পত্রিকায় সবধরণের বিজ্ঞাপন ফ্রি করা হয়েছে

এই মাত্র পাওয়া

Post Top Ad

Your Ad Spot
স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৯

হৃদরোগ ও ব্রেনস্টোকে প্রতিদিন প্রায় ৫ জনের মৃত্যু

জানুয়ারি ০৩, ২০১৯
ঝিকরগাছাবাজার পত্রিকা  ডেস্ক :
খাদ্যাভ্যাস, জীবনধারা পরিবর্তন ও শীতজনিত কারণে যশোরে আশঙ্কাজনক হারে হৃদরোগ ও ব্রেনস্টোকে আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। গত ২২দিনে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও সিসিইউতে ১০৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় সেবিষয়ের সত্যতা মিলছে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তৌহিদুল ইসলামের মতে, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের রক্তনালি সরু হওয়ার কারণে হৃদরোগ ও ব্রেনস্টোকে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার প্রভাব যশোরেও রয়েছে। এ বাদেও বর্তমানে শীতজনিত কারণে এ রোগের সংখ্যা বেশি দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালের পাঁচটি ওয়ার্ডে রেজিস্টার খাতার পরিসংখ্যা অনুযায়ী চলতি মাসের প্রথম থেকে ২২ ডিসেম্বর দুপুর দুইটা পর্যন্ত হৃদরোগ ও ব্রেনস্টোকে আক্রান্ত হয়ে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫৭৮ জন ভর্তি হয়, এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই ভাবে পুরুষ পেয়িং ওয়ার্ডে ৬৪ জন রোগীর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫জনের মৃত্যু হয়। মহিলা পেয়িং ওয়ার্ডে ৬৯ জন রোগীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড ৬৭৭জন রোগীর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এবাদেও হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে মোট ৩৫০ জন মহিলা ও পুরুষ হৃদরোগী ও ব্রেনস্টোকের রোগী ভর্তি হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৫০জন রোগীর মৃত্যু হয়। বর্তমানে অধিকাংশ শীতজনিত কারণে অসুস্থ ও মৃত্যুর শিকার হয়েছেন বলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রেজিস্টার ফজলুল হক খালিদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শীতের কারণে মানুষ খাওয়ার পরপর ঘুমাতে চলে যায়। এর ফলে খাবার হজম না হয়ে গ্যাসে রূপান্তর হয়ে ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে মানুষের রক্ত বাধাগ্রস্থ হয়ে হৃদরোগ ও ব্রেনস্টোকে আক্রান্ত হচ্ছে। এই সকল রোগী চিকিৎসা দেওয়ারও সুযোগ দেয় না। তিনি আরও বলেন, শীতকালে হৃদরোগ ও ব্রেনস্টোকের আর একটি কারণ হচ্ছে হঠাৎ করে শরীরের তাপমাত্রা থেকেও কমমাত্রার পানি দিয়ে গোসল করলে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এদিকে সিসিইউ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন যশোর শহরের বকচর এলাকার আব্দুর সাত্তারের ছেলে রশিদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তার পিতা গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে খাবারের পরে অতিরিক্ত শীত অনুভব করেন। তখন পরিবারের স্বজনরা তাকে দ্রুত ঘুমানোর জন্য বলেন। পরে বাথরুমে নিলে তিনি পড়ে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তাকে হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে, যশোর চৌগাছা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের রাজ্জাক গাজীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম গত শুক্রবারে গোসল করতে গিয়ে মাথা ঘুরে বাথরুমে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। ছেলে কামাল হোসেন জানান, ওই সময় স্বজনরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এব্যাপারে হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোশফেক উর রহমান বলেন, শীতকালে মানুষের শরীরে রক্তপ্রবাহ অন্যসময় থেকে বেশি বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে হৃদরোগী ও ব্রেনস্টোকে আক্রান্ত হয় মানুষ। অন্যদিকে এই সকল রোগীরা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন চাপে থাকার কারণেও হৃদরোগ ও ব্রেনস্টোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। এবাদেও বর্তমানে মানুষ বেশি মাত্রায় ফাস্টফুড খাচ্ছে। কিন্তু ব্যালেন্স ফুড খাচ্ছে না। ফলে মানুষ খাবারের মাধ্যমে সঠিক পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ও ক্যালোরি পাচ্ছে না।
যশোর মেডিকেল কলেজের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজল কান্তি দাঁ বলেন, হৃদরোগ ও ব্রেনস্টোক প্রতিরোধ করতে হলে রোগীদের ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সেই সাথে ধূমপান ছাড়তে হবে। কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার ত্যাগ করতে হবে; সাথে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে হৃদরোগ ও ব্রেনস্টোকের রোগ মহামারিতে রূপান্তর হয়েছে। এই রোগের উন্নত চিকিৎসা অনেকটাই ঢাকা কেন্দ্রিক। জেলা হাসপাতালগুলোতে জোড়াতালি দিয়ে সেবা দিতে হয়। তারপরও যশোরের চিকিৎসকরা তাদের সাধ্যমত সেবা দিচ্ছেন।
Read More

মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৯

সর্দিতে নাক বন্ধ হলে যা করবেন

জানুয়ারি ০১, ২০১৯

সর্দিতে নাক বন্ধ হলে যা করবেন

ঝিকরগাছাবাজারপত্রিকা ডেস্ক :

ঋতুবদলের ইঙ্গিত বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে বাতাসে৷ এ সময় একটু হেরফের হলেই সর্দি-কাশির একটা সমস্যায় ভুগতে আরম্ভ করেন অনেকেই৷ সারারাত শুকনো কাশি কাশতে কাশতে বুকে ব্যথা ধরে যায়৷ এই পরিস্থিতিতে আপনিও নাজেহাল? জানেন তো, আমাদের শরীর যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিউকাস তৈরি করে, তখনই বাড়তি মিউকাস নাকের দিক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে৷ চলতি কথায় সেটাকেই আমরা বলি ‘নাক দিয়ে পানি পড়া’৷
যদি মিউকাস নাক দিয়ে বেরোতে না পেরে চুঁইয়ে গলায় নামে– তা হলে তা হয়ে দাঁড়ায় শুকনো কাশির কারণ৷ মিউকাস কিন্তু যে কোনো ইনফেকশনের সঙ্গে লড়তে এবং তা তাড়াতে সাহায্য করে৷ কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত মিউকাস শরীর তৈরি করলেই সমস্যা শুরু হয়৷ আচমকা ঠাণ্ডা পড়লে, অ্যালার্জি হলে, সাইনাসের ইনফেকশন দেখা দিলে, ধোঁয়া-ধুলো বা বিশেষ কোনও গন্ধ ট্রিগার হিসেবে কাজ করলে এমনটা হতে পারে৷ যাঁদের নাকের হাড় একটু বাঁকা, তাঁরা প্রায়ই এই সমস্যায় ভোগেন৷ গর্ভাবস্থায় বা কোনও বিশেষ ওষুধের প্রতিক্রিয়াতেও এমনটা দেখা দিতে পারে৷ নাক দিয়ে সর্দি বেরনো, কাশি ছাড়াও গলা ব্যথা, শ্বাসে দুর্গন্ধ, ঢোক গেলায় সমস্যাও হতে পারে৷
দিনে দু’বার স্টিম নেওয়ার পাশাপাশি অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ খেলেই সাধারণত সমস্যা সেরে যায়৷ যাঁরা খুব অ্যালার্জিতে ভোগেন তাঁর ডিসপোজ়েবল মাস্ক ব্যবহার করতে আরম্ভ করুন ঋতু বদলের সময়টায় অন্তত৷
গলার কাছটায় আরামের জন্য উষ্ণ জলে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার আর মধু মিশিয়ে খেতে পারেন৷ আদা আর মধু দিয়ে চা খাওয়াও চলে৷ দুধ আর কাঁচা হলুদ বেশ করে ফুটিয়ে পান করুন, শরীরের ভিতরের সব ইনফেকশন কমাতে তা কার্যকর৷
Read More

Post Top Ad

Your Ad Spot